Posts

Showing posts from January, 2025

রক্তচোষা কী খায়?

Image
  জঙ্গলে, পার্কে কিংবা বাসার আশেপাশে আমরা হরহামেশা রক্তচোষা বা গিরগিটি দেখতে পাই। অনেক সময় লাল বর্ণ বিশিষ্ট গিরগিটি আমরা দেখে থাকি। রক্ত বর্ণ বিশিষ্ট রক্তচোষা বা গিরগিটি কি রক্ত চোষে বা পান করে? না। এরা রক্ত চোষে না কিংবা পানও করেনা। ছবিঃ তানভীর আহমেদ  তাহলে এরা কী খায় ?  গিরগিটি মূলত পতঙ্গভুক একটি সরীসৃপ। ইংরেজিতে এদের Garden lizard বলে এবং এদের বৈজ্ঞানিক নাম Calotes versicolor ।  এরা পোকামাকড় খেয়ে পরিবেশ ও কৃষকের অনেক উপকার করে। সম্ভবত মাথার জায়গাটা রক্তবর্ণ বিশিষ্ট হওয়ার কারণে এদের নাম রক্তচোষা হয়েছে। তবে সব গিরগিটি লাল বর্ণ বিশিষ্ট হয় না। প্রজনন মৌসুমে শুধু পুরুষ গিরগিটির মাথা ও ঘাড়ের অংশ লাল বর্ণ ধারণ করে। পুরুষ গিরগিটি স্ত্রী গিরগিটিকে আকর্ষিত করতে এমনটা দরকার হয়। এদের প্রজনন মৌসুম এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। স্ত্রী গিরগিটি নরম বালি বা মাটিতে ডিম পাড়ে।    - Azizul Islam Barkat   ResearchGate  

এপিজেনেটিক্সঃ বৈশিষ্ট্য প্রদর্শনে পরিবেশের প্রভাব

Image
 DNA সকল জীবের বৈচিত্র্য নিয়ন্ত্রণ করে। একজন মানুষ কালো না সাদা হবে, খাটো না লম্বা হবে সব কিছু তাঁর DNA তে লিপিবদ্ধ থাকে। তাহলে কি খাটো মানুষের সন্তান সব সময় খাটো হবে আর লম্বা মানুষের সন্তান লম্বা? এটার উত্তর সরাসরি হ্যাঁ বা না বলা সম্ভব না। কারণ বৈশিষ্ট্য প্রদর্শনের জন্য জিন বা DNA এর পাশাপাশি মানুষের লাইফস্টাইল, খাবার দাবার, আবহাওয়া অর্থাৎ পরিবেশের তাৎপর্য পূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। জীবের বৈশিষ্ট্য প্রদর্শনের ক্ষেত্রে পরিবেশের এ প্রভাবকে জীব বিজ্ঞানের ভাষায় এপিজেনেটিক্স (epigenetics) বলে।   বৈশিষ্ট্য প্রদর্শনের ক্ষেত্রে  পরিবেশ  কীভাবে DNA কে প্রভাবিত করে?  এর উত্তর হচ্ছে ডিএনএ মিথাইলেশন (DNA methylation) । পরিবেশের প্রভাবে (যেমনঃ   আবহাওয়া তাপমাত্রা, পুষ্টি, মানসিক চাপ, রেডিয়েশন) DNA তে মিথাইল মূলক (-CH3) যুক্ত হয়ে যায়। যার কারণ ডিএনএ থেকে প্রোটিন তৈরির প্রথম ধাপ ট্রান্সক্রিপশনের সময় মিথাইক মূলক যুক্ত ডিএনএ অংশটুকুতে ট্রান্সক্রিপশন ফ্যাক্টর সংযুক্ত হতে পারে না। যার ফলে সে ডিএনএটা এক্সপ্রেস হয় না। অর্থাৎ সে ডিএনএ থেকে কোন প্রোটিন তৈরি হয় না। পরিবেশ এভা...

লাফিয়ে চলে চিড়িং মাছ

Image
  বাংলাদেশের উপকূলে থাকেন কিন্তু চিড়িং বা ডাহুক মাছের সাথে পরিচয় নাই এমনটা হতেই পারে না। এমনকি আমরা যারা দু-একদিনের জন্যেও উপকূলে ঘুরতে গিয়েছি তাঁরা নিঃসন্দেহে এ মাছটি দেখেছি। এরা উপকূলের কর্দমাক্ত স্থানে থাকে যেখানে জোয়ারের পানি পৌঁছায়। চিড়িং বাতাস থেকে অক্সিজেন গ্রহণ   করে যার কারণে এরা গভীর পানিতে থাকতে পারে না।   চিড়িং Gobiidae পরিবার ভুক্ত একটি মাছ এবং ইংরেজিতে এদের Mud Skipper বলা হয়। বাংলাদেশে চিড়িং মাছের বেশ কয়েকটি প্রজাতি রয়েছে। যেমনঃ   Periophthalmus koelreuteri , Periophthalmus barbarous ,   Periophthalmodon schlosseri , Boleophthalmus boddarti ইত্যাদি। এ পরিবারের অন্যান্য পরিচিত সদস্যরা হচ্ছে বেলে এবং চেওয়া মাছ। চিড়িং মাছকে অহরহ দেখলেও এদের জীবন চক্রের অনেক কিছুই আমাদের অজানা। বিশেষত সন্তান প্রতিপালনে পুরুষ চিড়িং এর অবদান সবাইকে বিস্মিত করে। চলুন এদের প্রজনন নিয়ে কিছুটা জেনে আসা যাক।    ছবিঃ তানভীর আহমেদ    বংশবিস্তারের জন্য পুরুষ চিড়িং প্রথমে কাদার গর...