লাফিয়ে চলে চিড়িং মাছ

 বাংলাদেশের উপকূলে থাকেন কিন্তু চিড়িং বা ডাহুক মাছের সাথে পরিচয় নাই এমনটা হতেই পারে না। এমনকি আমরা যারা দু-একদিনের জন্যেও উপকূলে ঘুরতে গিয়েছি তাঁরা নিঃসন্দেহে মাছটি দেখেছি। এরা উপকূলের কর্দমাক্ত স্থানে থাকে যেখানে জোয়ারের পানি পৌঁছায়। চিড়িং বাতাস থেকে অক্সিজেন গ্রহণ  করে যার কারণে এরা গভীর পানিতে থাকতে পারে না।  

চিড়িং Gobiidae পরিবার ভুক্ত একটি মাছ এবং ইংরেজিতে এদের Mud Skipper বলা হয়। বাংলাদেশে চিড়িং মাছের বেশ কয়েকটি প্রজাতি রয়েছে। যেমনঃ  Periophthalmus koelreuteri, Periophthalmus barbarous,  Periophthalmodon schlosseri, Boleophthalmus boddarti ইত্যাদি। এ পরিবারের অন্যান্য পরিচিত সদস্যরা হচ্ছে বেলে এবং চেওয়া মাছ। চিড়িং মাছকে অহরহ দেখলেও এদের জীবন চক্রের অনেক কিছুই আমাদের অজানা। বিশেষত সন্তান প্রতিপালনে পুরুষ চিড়িং এর অবদান সবাইকে বিস্মিত করে। চলুন এদের প্রজনন নিয়ে কিছুটা জেনে আসা যাক।   

ছবিঃ তানভীর আহমেদ 

 বংশবিস্তারের জন্য পুরুষ চিড়িং প্রথমে কাদার গর্তে বাসা তৈরি করে এবং জনন ক্রিয়া সম্পাদনের জন্য স্ত্রী চিড়িংকে পটানোর চেষ্টা করে। বাসার ছাদ বা দেয়ালে স্ত্রী চিড়িং ডিম পাড়ে। জোয়ার আসলে বাসা পানির নিচে ডুবে যায়। কিন্তু বাসায় পর্যাপ্ত পরিমাণে বাবল বা বুদবুদ থাকে যা থেকে ডিমের জন্য প্রয়োজনীয় অক্সিজেন সরবরাহ নিশ্চিত হয়।   ডিম দেয়ার পরে স্ত্রীর কাজ শেষ হলেও ডিম থেকে ছানা বের করা পর্যন্ত পুরুষটিকে অনেক পরিশ্রম করতে হয়।  পুরুষটিকে বাসা অর্থাৎ ডিমগুলোকে পাহারা দিতে হয়। বাসাতে অক্সিজিনের অভাব যেন না হয় এজন্য ভাঁটার সময় পুরুষ চিড়িং সেখানে মুখভর্তি বাতাস বা বাবল প্রদান করে। ডিম পরিপক্ব হলে সেদিন রাতে জোয়ার আসলে ডিম গুলকে বাবল থেকে বের করে পানিতে ছেড়ে দায় পুরুষটি। এর কিছু সময় পরে ডিম ফুটে ছানা বের হয় যাদের প্রধান খাবার প্লাংকটন ৩০-৫০ দিনের মাঝে ছানা গুলো বড় হয়ে যায়।     

 উপকূলের বাস্তুতন্ত্রের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ এই চিড়িং মাছ। কাদাতে এরা লাফিয়ে লাফিয়ে চলে এবং শিকার খুঁজে।   চিড়িং শৈবাল, পোকামাকড়, কৃমি, ছোটখাটো চিংড়ি বা কাঁকড়া খেয়ে থাকে। এরা আবার  বক, কাস্তেচরা এবং অন্য উপকূলীয় পাখিদের খাদ্য তালিকাতে থাকে। এমনকি  বানরকেও এদের খেতে দেখা গেছে।   

মানব সৃষ্ট বিভিন্ন সংকটের কারণে আমাদের দেশের জীববৈচিত্র্য হুমকিতে রয়েছে। তবে আশার বিষয় হচ্ছে চিড়িং মাছের পপুলেশন এখনো পর্যাপ্ত পরিমাণে রয়েছে বলে বিশেষজ্ঞগণ মনে করেন।   


-Azizul Islam Barkat 

ResearchGate    Personal site 





Comments

Popular posts from this blog

সাপের বিষদাঁত কেমন হয়?

PCR কী? কেনো? কীভাবে?

বাচ্চা প্রসব করে যে সকল সাপ