Posts

রক্তচোষা কী খায়?

Image
  জঙ্গলে, পার্কে কিংবা বাসার আশেপাশে আমরা হরহামেশা রক্তচোষা বা গিরগিটি দেখতে পাই। অনেক সময় লাল বর্ণ বিশিষ্ট গিরগিটি আমরা দেখে থাকি। রক্ত বর্ণ বিশিষ্ট রক্তচোষা বা গিরগিটি কি রক্ত চোষে বা পান করে? না। এরা রক্ত চোষে না কিংবা পানও করেনা। ছবিঃ তানভীর আহমেদ  তাহলে এরা কী খায় ?  গিরগিটি মূলত পতঙ্গভুক একটি সরীসৃপ। ইংরেজিতে এদের Garden lizard বলে এবং এদের বৈজ্ঞানিক নাম Calotes versicolor ।  এরা পোকামাকড় খেয়ে পরিবেশ ও কৃষকের অনেক উপকার করে। সম্ভবত মাথার জায়গাটা রক্তবর্ণ বিশিষ্ট হওয়ার কারণে এদের নাম রক্তচোষা হয়েছে। তবে সব গিরগিটি লাল বর্ণ বিশিষ্ট হয় না। প্রজনন মৌসুমে শুধু পুরুষ গিরগিটির মাথা ও ঘাড়ের অংশ লাল বর্ণ ধারণ করে। পুরুষ গিরগিটি স্ত্রী গিরগিটিকে আকর্ষিত করতে এমনটা দরকার হয়। এদের প্রজনন মৌসুম এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। স্ত্রী গিরগিটি নরম বালি বা মাটিতে ডিম পাড়ে।    - Azizul Islam Barkat   ResearchGate  

এপিজেনেটিক্সঃ বৈশিষ্ট্য প্রদর্শনে পরিবেশের প্রভাব

Image
 DNA সকল জীবের বৈচিত্র্য নিয়ন্ত্রণ করে। একজন মানুষ কালো না সাদা হবে, খাটো না লম্বা হবে সব কিছু তাঁর DNA তে লিপিবদ্ধ থাকে। তাহলে কি খাটো মানুষের সন্তান সব সময় খাটো হবে আর লম্বা মানুষের সন্তান লম্বা? এটার উত্তর সরাসরি হ্যাঁ বা না বলা সম্ভব না। কারণ বৈশিষ্ট্য প্রদর্শনের জন্য জিন বা DNA এর পাশাপাশি মানুষের লাইফস্টাইল, খাবার দাবার, আবহাওয়া অর্থাৎ পরিবেশের তাৎপর্য পূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। জীবের বৈশিষ্ট্য প্রদর্শনের ক্ষেত্রে পরিবেশের এ প্রভাবকে জীব বিজ্ঞানের ভাষায় এপিজেনেটিক্স (epigenetics) বলে।   বৈশিষ্ট্য প্রদর্শনের ক্ষেত্রে  পরিবেশ  কীভাবে DNA কে প্রভাবিত করে?  এর উত্তর হচ্ছে ডিএনএ মিথাইলেশন (DNA methylation) । পরিবেশের প্রভাবে (যেমনঃ   আবহাওয়া তাপমাত্রা, পুষ্টি, মানসিক চাপ, রেডিয়েশন) DNA তে মিথাইল মূলক (-CH3) যুক্ত হয়ে যায়। যার কারণ ডিএনএ থেকে প্রোটিন তৈরির প্রথম ধাপ ট্রান্সক্রিপশনের সময় মিথাইক মূলক যুক্ত ডিএনএ অংশটুকুতে ট্রান্সক্রিপশন ফ্যাক্টর সংযুক্ত হতে পারে না। যার ফলে সে ডিএনএটা এক্সপ্রেস হয় না। অর্থাৎ সে ডিএনএ থেকে কোন প্রোটিন তৈরি হয় না। পরিবেশ এভা...

লাফিয়ে চলে চিড়িং মাছ

Image
  বাংলাদেশের উপকূলে থাকেন কিন্তু চিড়িং বা ডাহুক মাছের সাথে পরিচয় নাই এমনটা হতেই পারে না। এমনকি আমরা যারা দু-একদিনের জন্যেও উপকূলে ঘুরতে গিয়েছি তাঁরা নিঃসন্দেহে এ মাছটি দেখেছি। এরা উপকূলের কর্দমাক্ত স্থানে থাকে যেখানে জোয়ারের পানি পৌঁছায়। চিড়িং বাতাস থেকে অক্সিজেন গ্রহণ   করে যার কারণে এরা গভীর পানিতে থাকতে পারে না।   চিড়িং Gobiidae পরিবার ভুক্ত একটি মাছ এবং ইংরেজিতে এদের Mud Skipper বলা হয়। বাংলাদেশে চিড়িং মাছের বেশ কয়েকটি প্রজাতি রয়েছে। যেমনঃ   Periophthalmus koelreuteri , Periophthalmus barbarous ,   Periophthalmodon schlosseri , Boleophthalmus boddarti ইত্যাদি। এ পরিবারের অন্যান্য পরিচিত সদস্যরা হচ্ছে বেলে এবং চেওয়া মাছ। চিড়িং মাছকে অহরহ দেখলেও এদের জীবন চক্রের অনেক কিছুই আমাদের অজানা। বিশেষত সন্তান প্রতিপালনে পুরুষ চিড়িং এর অবদান সবাইকে বিস্মিত করে। চলুন এদের প্রজনন নিয়ে কিছুটা জেনে আসা যাক।    ছবিঃ তানভীর আহমেদ    বংশবিস্তারের জন্য পুরুষ চিড়িং প্রথমে কাদার গর...

PCR কী? কেনো? কীভাবে?

Image
পিসিআর (PCR, polymerase chain reaction) একটি মলিকুলার পদ্ধতি যেখানে একটি ডিএনএ খণ্ডের অসংখ্য অনুলিপি তৈরি করা হয়। পিসিআর  বর্তমানে     মলিকুলার বায়োলজির আবিছেদ্য  একটি  অংশ। ১৯৮৩ সালে আমেরিকার প্রাণ  রসায়নবিদ ক্যারি মুলিস উক্ত পদ্ধতিটি প্রণয়ন করেন। যার ফলশ্রুতিতে ১৯৯৩ সালে তিনি রসায়নে নোবেল পুরস্কার অর্জন করেন। জীব দেহে যেভাবে ডিএনএ অনুলিপি তৈরি হয় অনেকটা সেভাবেই পিসিআর মেশিনের ভিতরে ডিএনএ খন্ডাংশের অনুলিপি তৈরি হয়। পিসিআর মেশিন মূলত একটি তাপীয় যন্ত্র যেখানে নির্দিষ্ট সময় অন্তর বিক্রিয়া অনুযায়ী তাপমাত্রা ওঠা- নামা করে। প্রথমে পিসিআর টিউবে জিনোমিক ডিএনএ বা টেমপ্লেট ডিএনএ , ২ টি প্রাইমার ( ফরওয়ার্ড ও রিভার্স ) এবং এর সাথে dNTPs ( ডিএনএ এর বেজ সমূহ তথাঃ A,T,G,C), ট্যাক পলিমারেজ , ও MgCl2   নির্দিষ্ট অনুপাতে নেয়া হয়। তবে বর্তমানে মাস্টার মিক্স নামে একটি সলিউশন ব্যবহৃত হয় যেখানে   dNTPs, ট্যাক পলিমারেজ , ও MgCl2 এর আদর্শ অনুপাত বজায় থাকে। ...

iDNA এবং বন্যপ্রাণী পর্যবেক্ষণ

Image
বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের জন্য একটি বন ভূমিতে বন্যপ্রাণীর উপস্থিতি এবং এদের জনসংখ্যা জানাটা জরুরি। এর উপর ভিত্তি করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হয়। বন্যপ্রাণী পর্যবেক্ষণের জন্য সরাসরি পর্যবেক্ষণ যেমন বন্যপ্রাণীটিকে দেখা, বা এর ডাক শোনা, বা পায়ের ছাপ এবং মলমূত্র ইত্যাদি দেখে এদের শনাক্ত করা হয়। এর পাশাপাশি বন-জঙ্গলে ক্যামেরা বসিয়ে আরো বিশদভাবে বন্যপ্রাণী পর্যবেক্ষণ করা যায়। এ পদ্ধতিকে ক্যামেরা ট্রাপিং বলে । তবে ক্যামেরা ট্রাপিং তুলনামূলকভাবে ব্যয়বহুল এবং বেশ চ্যালেঞ্জিং। বর্তমানে তুলনামূলক কম খরচে iDNA পদ্ধতিকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন দেশে বন্যপ্রাণী পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। iDNA (invertebrate-derived DNA) এমন একটি মলিকুলার টেকনিক যেখানে অমেরুদণ্ডী প্রাণী থেকে মেরুদন্ড বিশিষ্ট প্রাণীর ডিএনএ আলাদা করে তাদের পরিচয় শনাক্ত করা হয়। iDNA পদ্ধতি একটি ইকোসিস্টেমে একটি জীব অন্য জীবের উপর বিভিন্ন ভাবে নির্ভরশীল। অনেক অমেরুদণ্ডী প্রাণী আছে যারা তাদের খাবারের জন্য মেরুদন্ড বিশিষ্ট প্রাণীর উপর নির্ভর করে। যেমন জোঁক মেরুদণ্ড বিশিষ্ট প্রাণীর রক্ত খেয়ে বেঁচে থাকে। তেমনিভাবে বংশ বিস্তারের জন্য স্ত্রী মশাকে রক্ত পান করতে ...

সাপের বিষদাঁত কেমন হয়?

Image
সাপ তার শিকারকে গিলে খায়। তাহলে দাঁত দিয়ে এরা কী করে?  উত্তর হচ্ছে  দাঁত দিয়ে এরা শিকার ধরে। এছাড়া বিষধর সাপ বিষদাঁত দিয়ে শিকারকে কাবু করে বা আত্মরক্ষার্থে এদের ব্যবহার করে। সুতরাং সাপে দুই ধরনের দাঁত দেখা যায়।  ১। সাধারণ দাঁত ২। বিষদাঁত  বিষদাঁত শুধু বিষধর সাপে পাওয়া যায়।  সাপের বিষদাঁত প্রধানত ২ ধরনের।  © earth.com  ১.Front Fang বা সম্মুখ বিষদাঁতঃ অধিকাংশ বিষাক্ত সাপের সম্মুখ বিষদাঁত থাকে। এদেরকে দুই ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে।  ক)Solenoglyphous সাপঃ     এদের বিষদাঁত অনেক বড়ো এবং সাধারণ অবস্থায়  পিছনে বাঁকানো থাকে।      উদাহরণঃ Vipers ( Russell’s viper , Pit viper ) খ)Proteroglyphous সাপঃ     এদের বিষদাঁত তুলনামূলক ছোট ও সোজা থাকে।     উদাহরণঃ Elapedes(cobra),mamba ২. Rear Fang বা পশ্চাৎ বিষদাঁতঃ     Opisthoglyphous সাপদের এই দাঁত গুলো থাকে।      উদাহরণঃColubrid ( Red necked keelback )      rear fang বিশিষ্ট সাপের ক্ষেত্রে বিষদাঁত মুখের  পিছনে   ব...

বাচ্চা প্রসব করে যে সকল সাপ

Image
সাপ বাচ্চা প্রসব করে শুনতে অবাক লাগলেও অনেক সাপই বাচ্চা প্রসব করে। সাপের প্রজনন অনেক ভাবেই হতে পারে। এদের প্রজনন নিয়ে চলুন মজাদার কিছু তথ্য জেনে আসা যাক। Spot-tailed pit viper সাপ সাধারণত যৌন জনন পদ্ধতিতে বংশ বিস্তার করে। প্রজননের কিছু দিন পর ডিম পাড়ে। ডিমগুলোর সেল বা বাইরের আবরণ পাখির ডিমের মতো শক্ত হয় না। বরং এদের ডিম নরম চামড়া দিয়ে আবৃত থাকে। হাত দিয়ে টিপলে ভিতরে দেবে যায়। ডিম পাড়ে এমন প্রাণীদের ব্যায়োলজির ভাষায় Oviparous Animal বলে।  সাপের ডিম ফুটে যে বাচ্চা বের হবে সেটা পুরুষ না স্ত্রী হবে এটা ডিম যেখানে থাকে তার তাপমাত্রার উপর নির্ভর করে। তাপমাত্রার তারতম্যের কারণে লিঙ্গ পরিবর্তন হয়ে যায়। এ বৈশিষ্ট্যকে কাজে লাগিয়ে সাপের ফার্মে বা কুমির ফার্মে ডিম থেকে প্রয়োজন মাফিক লিঙ্গ তৈরি করা হয়। যেমন কুমিরের ক্ষেত্রে পুরুষ তাড়াতাড়ি বড় হয়। বেশি মুনাফার জন্য খামারিরা অধিক পরিমাণে পুরুষ কুমির উৎপাদন করে থাকে। আবার কিছু প্রজাতির সাপ অযৌন জনন পদ্ধতিতে বংশ বিস্তার করে। অর্থাৎ স্ত্রী সাপ পুরুষ সাপের সাহায্য ছাড়াই নিজেই নিজের ডিম নিষিক্ত করতে পারে। এ পদ্ধতিকে Parthenogenesis বলে। দু-মুখো সাপ বা ...